Mufti Kazi Ibrahimইসলামি লেকচার

মা যদি সন্তানকে অভিশাপ দেয় তা কাটানোর উপায় কি?

মা যদি সন্তানকে অভিশাপ দেয় তা কাটানোর উপায় কি?
Mufti Kazi Ibrahim

প্রশ্ন ঃ- আমার মার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার মা আমাকে একটা কীরা বা অভিশাপ দিছে যে, তুই যদি আমাকে মা ডাকছ তাহলে তোর দুই ছেলে মারা যাবে। আমার মায়ের সাথে এর পর থেকে চার মাস কথা হয় নাই। এই ভাবে ডাক দিয়ে থাকি কিন্তু মা বলি না।

অনেক সময় বাবা মা উত্তেজিত হয়ে অনেক অভিশাপও দিয়ে থাকেন এবং কসমও করেন এবং কীরাও দিয়ে থাকেন। এই ধরণের কীরা গুলা বা শপথ গুলা এমনকি মাথায় হাত রেখেও বলে যে খবরদ্বার আমাকে আর ডাকবিনা। এই ধরণের শপথ বা কীরা ইসলামের দৃষ্টিতে বা শরীয়া কি বলে থাকে।

এই ধরণের যে কসম গুলু এই গুলা তাহহরীম এর পর্যায়ে একটা জিনিসকে সে হারাম করে নিয়েছে। যদি তুই মাকে মা ডাকিস তোর দুই সন্তান মারা যাবে আমাকে মা ডাকবিনা কিছুতেই, সন্তানের মৃত্যুর সাথে ঝুলন্ত করে দেয়া হল। নবী (সা.) একবার মধু খাবেন না বলে মধুকে হারাম করে নিয়েছেন। যে আমি এই মধু খাব না, এটাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা সূরা আত তাহরীমের মধ্যে এটাকে কসম হিসেবে উল্লেখ করেছেন

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكَ تَبْتَغِى مَرْضَاتَ أَزْوَٰجِكَ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Ya ayyuha alnnabiyyu lima tuharrimu ma ahalla Allahu laka tabtaghee mardata azwajika waAllahu ghafoorun raheemun
হে প্রিয় নবী! কেন তুমি তা নিষিদ্ধ করছ যা আল্লাহ্ তোমার জন্য বৈধ করছেন? তুমি চাইছ তোমার স্ত্রীদের খুশি করতে? আর আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
قَدْ فَرَضَ ٱللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَٰنِكُمْ وَٱللَّهُ مَوْلَىٰكُمْ وَهُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ
Qad farada Allahu lakum tahillata aymanikum waAllahu mawlakum wahuwa alAAaleemu alhakeemu
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বিধান দিয়ে রেখেছেন তোমাদের শপথগুলো থেকে মুক্তির উপায়; আর আল্লাহ্ তোমাদের রক্ষাকারী বন্ধু, আর তিনিই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।
— Surah At-Tahrim
ayat no: 1,2

কসম থেকে মুক্তির উপায়ও আল্লাহ্‌ বলে দিয়েছেন যে, সূরা আল মায়েদাহতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, দশ জন মিসকিনকে এক বেলা খাবার দেয়া অথবা দশজন মিসকিনকে একটা করে পোশাক দেয়া একটা লুঙ্গি বা শাড়ী কিনে দেয়া যদি সেটাও না পারে তাহলে তিনদিন রোজা রাখা।

কসমটা এই খানে মা করেছেন, তাহলে মা ১০জন মিসকিনকে খাবার দিবেন এক বেলা না হয় দশ মিসকিনকে একটা করে পোশাক কিনে দেয়া অথবা তিনটি রোজা রাখবেন ।
রোজা রাখার পরে সন্তান তার মাকে আবার মা ডাকবেন এবং তাহরিম বা যে কসমটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল।

একজন মুমিন কে লানত করা কতল বা হত্যা করা সমান,
—-সহীহ হাদিস ।

মুমিনের সান এমন না যে, সে কথায় কথায় মানুষকে লানত দিবে। লানত দেয়া এটা অনেক বড় অপরাধ এবং লানত দিলে, যাকে লানত দেয়া হল বা অভিশাপটা দেয়া হল এটা আসমান এবং জমিনে ঘুরতে থাকে বা ঘুরপাক খায়। যাকে লানত দেয়া হল সে যদি এটার উপযুক্ত হয় আসলেই সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে তার উপর এটা পড়বে। আর যদি সে এই লানত বা অভিশাপের উপযুক্ত না হয় অন্যায় ভাবে লানত বা অভিশাপ দেয়া হয় বা যে ব্যক্তি কে লানত দেয়া হয়েছে তাকে অন্যায় ভাবে দেয়া হয়েছে তাহলে এই লানত বা অভিশাপটি যে দিবে তার উপর বর্তাবে এবং যে লানত বা অভিশাপ দিবে আল্লাহ্‌ তাকেই আল্লাহ্‌র রহমত থেকে বঞ্চিত করে দিবে।

নারীরা অধিকাংশ জাহান্নামে যাবে, দুইটা কারণ একটা হল।
১. বেশী বেশী লানত দেয়া ( স্বামী, পোলাপাইন, পাড়া, প্রতেবেশী, এলাকা মহল্লা প্রায় অনেকের উপর বলে যে, আল্লাহ্‌র গজব পরুক লানত পরুক এই যে অভিশাপ গুলু । নারীদের জাহান্নামে যাওয়ার বড় দুই কারণের ভিতর এইটা হল বড় একটা কারণ। তাই বেশী বেশী লানত দেয়া হতে বিরিত থাকুন )
২. আরেকটা হল স্বামীর অবাধ্যতা।

tags:- মা যদি সন্তানকে অভিশাপ দেয়, অভিশাপ সম্পর্কে ইসলাম যা বলে, লানত অর্থ কি, অন্যের মৃত্যু কামনা করা, কাউকে লানত বা অভিশাপ দেওয়ার বিধিনিষেধ, কাউকে অভিশাপ দেওয়া যাবে না, অভিশাপ দিলে কি লাগে?, কাউকে অভিশাপ করা কি পাপ?, অভিশাপ কি, অভিশাপ, অভিশাপ অর্থ, ইসলামের দৃষ্টিতে অভিশাপ, মানুষের অভিশাপ, অভিশাপ সম্পর্কে ইসলাম, অভিশাপ থেকে মুক্তির দোয়া, অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায়, জীবন ও ধর্মের দৃষ্টিতে ‘অভিশাপ’ চর্চার কুফল, মা সম্পর্কিত উক্তি,

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close