Salahuddin Ahamedইসলামি লেকচার

নামাজ পড়ে অথচ গুনাহ করে!!!

নামাজ পড়ে অথচ গুনাহ করে চলছে সব সময়।

আল্লাহু সুবহানাহু তায়ালা, পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষণা করেছেন

 إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ
নিশ্চয় নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা এবং লজ্জাশীল কাজ হতে বিরত রাখে।
…………………..সূরা আল আনকাবুতের ৪৫ নং

কিন্তু একটা জিনিস আমরা দেখতে পারছি যে আমাদের মধ্যে বহু মানুষ রয়েছি প্রায় হাজার বা লক্ষ লক্ষ মানুষ পুরুষ ও নারী রয়েছি যারা আজকে প্রায় বহু বছর যাবত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করছি বা করেছে। মন দিয়ে সালাত আদায় করছি। কিন্তু অন্তত্ত্য পরিতাপের বিষয় হল এই সলাত আদায় করার পরও আমরা এই রকম বহু মানুষ রয়েছি যারা হয়তবা সুদের লেনদেন এর সাথে জড়িত, ঘুষের লেনদেনের সাথে জড়িত বা টাখনুর নিচে কাপড় পড়া এই হারাম কাজে জড়িত বা দাঁড়ী শেভ করা এই অপরাধের সাথে জড়িত বা অনেক মা বোন রয়েছি যারা বে পর্দায় জড়িত, অনেক ভাইয়েরা রয়েছি এই রকম যে গার্ল ফ্রেন্ড এর সাথে সব সময় কথা বলে , অনেক বোনেরা আছে এমন যে বয় ফ্রেন্ড এর সাথে সব সময় কথা বলে। সালাতও পড়ছে আবার এই কাজ ও করছে। আবার এই রকম স্ত্রীও আছে যে পরকীয়া জড়িয়ে পড়ছে কিন্তু সালাতও পড়ছে। আবার অনেক স্বামীও রয়েছে যে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছে আবার ৫ ওয়াক্ত সালাতও কিন্তু আদায় করছে।

অর্থাৎ অনেক পাপ কাজ রয়েছে যে শরিয়তের দৃষ্টি কোন থেকে প্রকাশ্যে দিবা লোকে হারাম এবং সকল ওলামায়ে কেরাম এই ব্যাপারে ইজমা যে কাজ গুলু হারাম। তো এই রকম হারাম কাজে জড়িত আবার ৫ ওয়াক্ত সালাতও আদায় করছি।

আল্লাহু সুবহানাহু তায়ালা বলছেন আমরা সালাত আদায় করলে পাপ কাজ থেকে বিরিত থাকব। আবার সালাত আদায় করার পাশাপাশি আমরা পাপ কাজেও জড়িয়ে গিয়েছি। আল্লাহর কথার সাথে আমাদের অবস্থানটা কেমন সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই আল্লাহ্‌ কথা সত্য এবং বাস্তব কিন্তু আমরা বৎসরে পড় বৎসর সালাত আদায় করার পরও আমরা পাপ থেকে বিরত থেকতে পারছি না।

গুনাহের কাজ গুলু দুই ধরণের হতে পারে। এক ধরনের গুনাহ হচ্ছে, মানুষ প্রবৃত্তির তাড়নায় কখনো করে ফেলেছে। এটা একটা গুনাহ হতে পারে।
আর একটা হচ্ছে অভ্যাস জনিত গুনাহ, যেটা তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে এবং সে কখনই ছাড়ছে না। অথবা পেশাগত গুনাহ
যেমন দরুন একজন মানুষ সুদ খাচ্ছে সব সময় খাচ্ছে। এটা কিন্তু হুট করেই হয়ে যায়নিই ব্যপারটা এই রকম না। প্ল্যান করে জেনে শুনে তারপর সুদ খাচ্ছে , ঘুষ খাচ্ছে । যে গুলু অভ্যাস জনিত গুনাহ এই গুলুর কথা আমরা বলব।
যে ব্যক্তি সালাত পড়ছে আবার বাজে অভ্যাস গুলু করছে। তার সালাত হচ্ছে কিনা আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি।

রসূল (স.) এর কাছে তার কাছে একজন সাহাবি আসলেন, তিনি বলেছেন
আমি একজন মহিলাকে চুমু দিয়ে ফেলেছি। গুনাহ পতিত হয়ে তিনি এখন কি করবেন, কষ্ট পাচ্ছেন। আল্লাহর রসূল (সা.) বলেন, তুমি কি সালাতে আমাদের সাথে সামিল হয়েছিলা। সে বলল হ্যাঁ রাসূল (সা.)। তখন রাসূল (সা.) বললেন, ভাল কাজ গুলু মন্দ কাজ গুলুকে মিটিয়ে দেয়।
তার মানে বুজা গেল যে একজন মুমিন কখনো কখনো ভুল করে ফেলতে পারে সালাত আদায় করা সত্যেও । কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সাহাবিদের মধ্যে এমন কাউকে পাবেন না যে লোক নিয়মিত সুদ খাচ্ছে আবার সালাত পড়ছে। মুনাফিকরাও এমন ছিল না। যারা মুনাফিক ছিল তারা কিন্তু সুদে জড়িত ছিল না। ঘুষে জড়িত ছিল না, তারপর টাখনুর নিচে কাপড় জুলাতেন না। নিয়মিত শেভ করা, শিরিকের মত ভয়াবহ গুনাহ এর মধ্যে লিপ্ত হত না। রাসূল (সা.) এর যে মহিলা সাহাবী ছিলেন তারাও বেপর্দায় অথবা পরকীয়া লিপ্ত ছিলেন না এবং কল্পনাও করা যেত না। উনাদের মধ্য থেকে ভুল ভ্রান্তি হয়েছে , উনারাও মানুষ ছিলেন।
সবাই ভুল করবে এবং তাদের মধ্যে যারা ক্ষমা চেয়ে নিবেন এটাই উত্তম।

আমরা যখন সালাতে আসি, তখন কিছু কাজ আমাদের জন্য আগে বৈধ থাকে কিন্তু সালাত শুরুর সাথে সাথে এই গুলু অবৈধ হয়ে যায়। যেমন কথা বলা বৈধ কাজ কিন্তু যখন সালাত শুরু করলেন তখন কথা বলা যাবে না, খাওয়া দাওয়া করা যাবে না, এই দিক সে দিক তাকানো জায়েজ কিন্তু সালাত এর ভিতরে জায়েজ নাই।

সালাত থেকে বের হয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা যে গুলা হারাম করেছেন কিন্তু আপনি তাতে হালাল বা বৈধ মনে করছেন। অথবা আপনি এটাকে কোন গুনাহের কাজই মনে করছেন না। তাহলে সালাতে যে আপনাকে ট্রেনিংটা দেয়া হল এই যে দরখাস্ত আপনি করলেন, এইখানে আল্লাহর অক্সিজেন পাচ্ছেন তাই করছেন এইখানে আল্লাহ্‌ আপনাকে ডেকে ছেন তাই করছেন আর এই খান থেকে বের হয়ে যাবার পর আপনার সব কিছু কি অন্য কেউ করছেন। আপনি এই খান থেকে বের হয়ে যাবার পর যে ভু খণ্ডে আপনি গেলেন সেটার মালিকানা কি অন্য কেরো অবশ্যই না, তাহলে এইখানে আপনি একটা হালাল বিষয় সাময়িক ভাবে হারাম করেছে আপনি মেনে নিলেন আর যেটা চূড়ান্ত ভাবে হারাম সেটা আপনি কি ভাবে মানতে পারছেন না।

আমরা যে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুর গোলাম সেটা কিন্তু সবচেয় বেশী প্রাকাশিত হয় সালাত এর মাধ্যমে এবং সিজদাহ এর মাধ্যমে। এই যে সালাত এর মাধ্যমে আমরা যে গোলামি প্রকাশ করছি সালাতে এইটাও একটা শিক্ষা যে বাহিরে গিয়েও এই গোলামিটা চলতে হবে। যদি এই খানে গোলামি আল্লাহর চলে এই খানে বাহিরের মালিকানাও আল্লাহ্‌র, ঐখানে আল্লাহ্‌র গোলামিই চলবে।

সালাতটা আল্লাহ্‌র রাসূল (সা.) যে ভাবে পালন করেছেন আমারা সে ভাবে পালন করছি না। সালাতের যে একটা উদ্দেশ্য আছে সেটা আমরা অনেকেই জানি না, তাই আপনাদের উচিত সালাতে আপনারা কি করছেন কি বলছেন তা বুঝা। এমন অনেক মানুষ আছে যে, ৮০ বা ৯০ বছর হয়েছে উনি সালাত পরছেন সূরা ফাতিহায় উনি কি বলছেন উনি জানেন না। এটা খুব আফসুস এর বিষয়।
এই জন্যই জানা দরকার মানা দরকার আল্লাহ্‌র কাছে সর্ব অবস্থায় দোয়া করা দরকার যে আল্লাহ্‌ আমাকে তুমি দ্বীনের পথে রাখ ।

না টেনে সম্পূর্ণ ভিডিওটা দেখবেন।

Tags:- ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের নিয়ম , নামাজ সম্পর্কিত হাদিস , নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম ,
নামাজের ইতিহাস
সুন্নত নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে
আযানের আগে কি নামাজ পড়া যায়

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close