Khairul Islamইসলামি লেকচার

দেখুন তো! আপনি মুনাফিক কি না?

দেখুন তো! আপনি মুনাফিক কি না?

এই ধরুন —-
আপনার এলাকায় আপনার মসজিদে একজন হুজুরকে আপনি খুৎবা দেওয়ার জন্য নিয়োগ দিলেন। ১ম জুমআতে হুজুর সালাত বা নামাজ সম্পর্কে খুৎবা দিলেন, তখন হুজুরের অনেক প্রসংসা করলেন যে হুজুর খুব ভালো খুৎবা দেয়। ২য় খুৎবায় হুজুর রোজা সম্পর্কে খুৎবা দিলেন, আপনি খুশি হয়ে তাকে হাদীয়া বাড়িয়ে দিলেন! ৩য় খুৎবাতে হজুর যাকাত বিষয়ে বললেন আপনি হুজুরের প্রসংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু চতুর্থ জুমআয় হুজুর যখন খুৎবা দিলেন আল্লাহর কুরআনের আইন এবং দ্বীন সম্পর্কে তখনি আপনার শরীরে আগুন জ্বলে উঠলো। আপনি ভাবলেন, আরে এটা কি!!! তখনই আপনি হুজুরকে মৌলবাদী বলে গালি দিতে লাগলেন। আপনি তার মধ্যে জঙ্গীবাদের গন্ধ খুঁজতে লাগলেন! এটা কি বলুন তো ?

যে আল্লাহ বলেছেন,
“ওয়াকি মুস্ সালাত সেই আল্লাহই বলেছেন ওয়াকী মুদ্বীন।”
অর্থাৎ তোমরা যেমনি ভাবে সালাত প্রতিষ্ঠা কর তেমনি ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা কর।
—————- সূরা শূ’রা।

এখন দ্বীন বা তাওহীদ শুধু কি মসজিদে প্রতিষ্ঠা করবেন, নাকি জমিনের প্রতিটা ইঞ্চি ইঞ্চি ভূখন্ডের উপর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে ?

যে আল্লাহ বলেছেন,
” কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম” অর্থাৎ তোমাদের উপর রমজানের সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আবার সেই আল্লাহই বলেছেন,” কুতিবা আলাই কুমুল কিতাল।”
অর্থাৎ প্রয়োজনে তোমাদের উপর অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বা লড়াই করা ফরজ করা হয়েছে।
—————— সূরা বাকারা।

হুজুর কি কুরআনের বাইরে কথা বলেছেন?
মিষ্টি খাওয়া সুন্নাত এটা আমরা সবাই জানি।
কিন্ত আপনি কি জানেন সাড়ে ১৪০০ বছর আগে বোখারী শরীফের হাদীসে পড়ে আছে – অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরবারী ধরা ও সুন্নাত।

তাই সুনিশ্চিত করে বলা যায়—
যে মুসলিম ওয়াকিমুস সালাত মানবে ওয়াকিমুদ্দীন মানবেনা, সিয়াম মানবে কিতাল মানবেনা, মিষ্টি খাওয়া সুন্নাত মানবে, মেসওয়াক মানবে কিন্তু জিহাদ মানবে না সেই মুসলিম হলো মুনাফিক।
ইরাকে যে সমস্ত সেনারা মুসলিম ভাই-বোনকে হত্যা করতেছে,ধর্ষন করতেছে তারা মুনাফিক নয়, তারা হলো খ্রিষ্টান।
ফিলিস্তিনে স্বাধীনতাকামী ভাইবোনদের ইজরাইলী সৈন্যরা গুলি করছে,তাদের ভুখন্ড কেড়ে নিচ্ছে তারা মুনাফিক নয়। তারা ইহুদী। পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারে ইতিহাসের জঘন্য কায়দায় যারা মুসলিম ভাইদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, এই সমস্ত সূচী বা তার জঙ্গী গোস্ঠী রয়েছে তারাও মুনাফিক নয় তারা হলো বৌদ্ধ।
বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে গরুর গোস্ত খাওয়ার অপরাধে কোন কোন মুসলিমকে পিটাতে পিটাতে মেরে ফেলছে। তারাও মুনাফিক নয়। তারা হলো হিন্দু। অর্থাৎ ক্রিস্টান, ইহুদী, বৌদ্ধ বা হিন্দুরা মুনাফিক নয়!

আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা বলেন—
“ইন্নাল মুনাফিকীনা ফিদ্দারকিল আসফাল মিনান্নার।”
———– সূরা নিসা– ১৪৫।
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামর তলদেশে।
মানে খ্রীস্টান, ইহূদী, বৌদ্ধ বা হিন্দুদের ও নিচে।
তাহলে মুনাফিক কারা???

মুনাফিক দেখতে আমেরিকা, ইসরাইল, মায়ানমার বা ভারতে যাওয়ার দরকার নাই, বাংলাদেশের আনাছে কানাছেই রয়েছে এসব মুনাফিক।
স্পস্ট করে বলতে গেলে মোনাফিক হলো সেই বক্তা যারা শরীরে পাঞ্জাবী জড়িয়ে, মাথায় টুপি পরে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে নাস্তিকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে, ঐসব নেতা হলো মুনাফিক। যারা সর্বদা ন্যায় নীতির কথা বলে নিজেরাই কোরআন বিরোধী সংবিধান গড়ে তোলে। ঐসব মুসল্লী মুনাফিক যারা ওয়াজের প্যান্ডেলে ইসলামের পক্ষেই থাকে, কিন্তু সেখান থেকে বের হয়ে এমন লোকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে যারা সকাল সন্ধ্যায় ইসলামকে জবাই করে।
ইতিহাস তালাশ করলে দেখা যায়——
এইসব মুসলিম নামধারী মুনাফিকদের কারনেই ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এইসব দুমুখোদের জন্যই ইসলামকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। এরা মসজিদ ছাড়া আর কোথাও একত্ববাদ মানেনা। আজ বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষই মুনাফিক, আর এই মুনাফিকরাই ইসলামের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করছে

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close