Dr. Abul Kalam Azad Basharজুম্মা খুৎবা

ঈমান ভঙ্গের কারন জুম্মার খুৎবা (৩০.০৮.২০১৯) Video

ঈমান ভঙ্গের কারন
জুম্মার খুৎবা আলোচনায় (৩০.০৮.২০১৯)
ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার

আমরা শুরু থেকে ৩ জুম্মা ঈমান নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কি, কিভাবে ঈমান আনা লাগে, ঈমান ধরে রাখা লাগে এই প্রসঙ্গ গুলু নিয়ে আমরা কথা বলেছি। মাঝখানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি কুরবানি নিয়ে, হজ্বের আলোচনা। তাই আজকে আলোচনা করা হবে ঈমান ভঙ্গের কারন। 

ঈমান সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ, আল্লাহর দেয়া যত নেয়ামত আছে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামতের নাম হচ্ছে ঈমান। এই দুনিয়াতে এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর নাই। তামাম পৃথিবীকে এক পাল্লা রেখে যদি আরেক পাল্লা ঈমান রাখা হয় । আপনি কোনটা নিবেন, অবশ্যই ঈমান। একজন মোমেন অবশ্যই ঈমান নিবে কারণ মোমেন এর কাছে পৃথিবীতে ঈমানের চেয়ে দামি জিনিস আর নাই।  যে ঈমান এর জন্য সাহাবারা জীবন দিয়েছে, জেনে বুঝে হাসতে হাসতে, দুনিয়াতে মানুষ কয়বার আসবে। একবারই, আমরা এসে গেছি  আর নাই, পুনঃজন্মে আমরা বিশ্বাস করি না। একবারইতো আসলাম, হারিয়ে গেলেতো শেষ, এই জন্যই তো জীবনের প্রতি আমাদের এত মায়া। কিন্তু সাহাবারা জানতেন, যে আজকের যুদ্ধে গেলে শহীদ হওয়া লাগবে। রাসূল (সা.) বলেছেন মূতার যূদ্ধে যাওয়ার আগে, আজকে সেনাপতি হবে জায়েদ, জায়েদ যদি শহীদ হয়, জাফার আর জাফার যদি শহীদ হয় তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে রহা সে যদি শহীদ হয় তোমরা একজনকে বানিয়ে জিহাদ চালিয়ে নিয়ে যেও। একটি জিহাদে সেনাপতি কয়জন লাগে?

আজকে বলেছে চারজনের কথা, ৩ জনের নাম বলেছে আর ৪তম জনকে ইশারা দিয়েছিল। উনারা বুঝে নিয়েছিলেন এক জিহাদে ৪ জন সেনাপতি লাগে না, যেহেতু রাসুল বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে রহা যদি শহীদ হয় তাহলে তোমরা আরেক জনকে নেতা বানিয়ে বা সেনাপতি বানিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে নিও। এর মানে প্রথম ৩ জনের একজনও ফিরে আসার সম্ভাবনা নাই। ওই তিনজন সাহাবী কি রাসুল এর কাছে ছুটি চেয়েছিল। আজকে গেলেতো আর ফিরে আসা যাবে না, সুতরাং বলি হুজুর আজকে মাথা ব্যথা তো একটু ছুটি দেন। কোন ওজর দেখায় নাই, জীবন একটাই সেটা আল্লাহর রাস্তায় দিয়েছেন। বেলাল এর গলায় রশি লাগিয়ে টানছেন কিন্তু কালেমা ছাড়ে নাই। এটা খুব দামি।  

যে ঈমান এতো দামি, আর দুনিয়ার স্বভাবিক নিয়ম হল যে জিনিস যত দামি হয় ওইটা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তত বেশী । তাই এর যত্ন নিতে হবে তত বেশী। 
তাই ঈমান যেহেতু দামী, ঈমানের জোড় আছে শয়তান, সে আল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল 
 আমি তাদের পিছন থেকে তাদের সামনে  থেকে বাম পাশ থেকে ডান পাশ থেকে চার দিক থেকে আক্রমন করতে থাকব, আমার আক্রমন চলতে থাকবে ততদিন তাদের দেহে প্রান থাকবে যতদিন। 
আল্লাহর হাবিব বলেন শয়তান আল্লাহর কসম করে বলে , 
হে আমার রব, আমি আপনার ইজ্জত এর শপথ করলাম, তাদের দেহে যত দিন প্রান থাকবে  ততদিন তাদেরকে আমি পথহারা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকব। 
শয়তান আল্লাহর কসম করে বলল, আমি আমার চেষ্টা থেকে সামান্য বিরতী দেব না, 
কুরআনের আয়াত চারদিক থেকে আক্রমণ করার পড়ে রেজাল্ট তাদের অধিকাংশ শোকরওয়ালা পাবেন না, শোকর এর বিপরীত শব্দ হল কুফুর। এর মানে হল আমি তাদেরকে কুফুরিতে লিপ্ত করে ছেড়ে দিব। শয়তান এটা চালাচ্ছে,

ঈমান কিভাবে হারিয়ে যায়, কিভাবে শয়তান মানুষ থেকে ঈমান কেড়ে নিয়ে যায়। এটা আমাদের জানতে হবে এবং সতর্ক থাকা লাগবে। 
১. কূফুর
২. শিরিক

৩. নেফাক
এই তিনটি বিষয় থেকে আমাকে আর আপনাকে বেচে থাকতে হবে। 

আল্লাহ বললেন, নিশ্চয়ই যারা কুফুরী করবে, আহলে কিতাবদের মাঝ থেকে যে ব্যক্তি কুফুরি করবে আমাদের মাঝ থেকে যে ব্যক্তি কুফুরী করবে অন্যদের মাঝ থেকে তাদের প্রতিফল হল তারা জাহান্নামী হবে। চিরকাল জাহান্নামে থাকা লাগবে। কিন্তু কুফুরী করলে মুক্তি নাই। এতে বুঝা যায় ঈমান বাঁচাতে হলে কুফুরীথেকে বাচতে হবে। 
২ নং হচ্ছে শিরিক থেকে বাচতে হবে, কুরআনে আল্লাহ বলছেন, 
যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরিক করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম বানায়ে দেন, আর সে ব্যক্তি কে দেয়া হবে জাহান্নামের আগুন। ঈমান থাকলে জান্নাত পাবে আর শিরিক করলে জান্নাত হারাম হবে। 
নিশ্চয়ই 

https://www.youtube.com/watch?v=nPUsoXmETz8
Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close